মিয়ানমারের একটি স্ক্যাম সেন্টার থেকে উদ্ধার হওয়া ৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দেশে ফিরছেন। দীর্ঘদিন মানবপাচার ও জোরপূর্বক শ্রমের শিকার থাকার পর তারা অবশেষে স্বজনদের কাছে ফেরার সুযোগ পাচ্ছেন।
উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিরা হলেন আব্দুল মালেক, হাবিবুর রহমান, রহিম বাদশা, এসকে মিনহাজুল হোসেন, মো. মেহরাজ হাসান, রিয়াজ ফকির, রিপন মিয়া এবং উলহাসায় মারমা। তারা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাংলাদেশ বিমানের BG389 নম্বর ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতারণামূলক চাকরির প্রলোভনে এসব বাংলাদেশিকে বিদেশে নিয়ে গিয়ে মিয়ানমারের একটি স্ক্যাম সেন্টারে আটকে রাখা হয়। সেখানে তাদের দিয়ে অনলাইন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড করাতে জোরপূর্বক বাধ্য করা হতো। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে দীর্ঘ সময় তারা সেখানে বন্দি অবস্থায় ছিলেন।
স্ক্যাম সেন্টার থেকে ভুক্তভোগীদের উদ্ধার এবং নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, থাইল্যান্ডে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক। মানবপাচার ও জোরপূর্বক শ্রমের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষা ও পুনর্বাসনে দীর্ঘদিন ধরেই ব্র্যাক সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছে।
এর আগে ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর মিয়ানমার থেকে আরও ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। ধারাবাহিক এসব উদ্ধার কার্যক্রম মানবপাচারের ভয়াবহতা এবং এ থেকে নাগরিকদের রক্ষায় রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ব্র্যাক জানিয়েছে, দেশে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের জন্য জরুরি সহায়তা ও প্রয়োজনীয় প্রাথমিক সেবা দেওয়া হবে। পাশাপাশি শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক আঘাত কাটিয়ে উঠতে তাদের কাউন্সেলিং ও মানসিক সহায়তা দেওয়া হবে। পরবর্তীতে সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুনর্বাসনের ক্ষেত্রেও প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশে চাকরির নামে মানবপাচারের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। তাই এ ধরনের প্রতারণা থেকে বাঁচতে বিদেশে কাজের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই এবং সচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। উদ্ধার হওয়া এসব বাংলাদেশির নিরাপদ প্রত্যাবর্তন মানবপাচার বিরোধী প্রচেষ্টায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
Leave a Reply