আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে জুলাই সনদের ওপর গণভোট। এই গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় আয়োজনকে সামনে রেখে ভোটগ্রহণ নির্বিঘ্ন ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ছুটির সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
এর আগে সরকার ঘোষণা দিয়েছিল, নির্বাচন ও গণভোটের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে সাধারণ ছুটি থাকবে। এবার সেই ছুটি আরও এক দিন বাড়িয়ে ১১ ফেব্রুয়ারিকেও সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলে কর্মরত শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি বিশেষভাবে ছুটি রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকরা টানা তিন দিনের ছুটি পাবেন।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমির মিলনায়তনে এক ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন সাধারণ ছুটি থাকবে, যা আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল। আজকের কেবিনেট বৈঠকে ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি এবং ১০ ফেব্রুয়ারি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য ছুটি অনুমোদন করা হয়েছে। এর ফলে শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকরা মোট তিন দিন ছুটি ভোগ করবেন।”
সরকারি সূত্র জানায়, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে মানুষের যাতায়াত, ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চলে কর্মরত বিপুলসংখ্যক শ্রমিক যাতে নির্বিঘ্নে নিজ নিজ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেদিকটি বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোটার উপস্থিতি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এ জন্য প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে টানা ছুটির ঘোষণায় সাধারণ মানুষ ও শ্রমজীবীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত ভোটাধিকার প্রয়োগে উৎসাহ বাড়াবে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করবে।
Leave a Reply