সরকার ৪৮তম (বিশেষ) বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে ৩ হাজার ২৬৩ জন প্রার্থীকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) ২৯ সেপ্টেম্বর ও ২৭ অক্টোবর তারিখের চিঠির আলোকে ৪৮তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জাতীয় বেতনস্কেল ২০১৫ অনুযায়ী মাসিক ২২ হাজার থেকে ৫৩ হাজার ৬০ টাকা পর্যন্ত বেতন পাবেন।
নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, নির্বাচিত কর্মকর্তাদের প্রথমে বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিপিএটিসি) অথবা সরকার নির্ধারিত অন্য কোনো প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে। এরপর চাকরিসংশ্লিষ্ট দপ্তরে সরকার নির্ধারিত পেশাগত ও বিশেষ প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে হবে। তাদেরকে দুই বছর শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করতে হবে, যা প্রয়োজনে সরকার অনূর্ধ্ব দুই বছর পর্যন্ত বাড়াতে পারবে।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, শিক্ষানবিশকালে কোনো কর্মকর্তা চাকরিতে বহাল থাকার অনুপযোগী বলে বিবেচিত হলে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই এবং পিএসসির সঙ্গে পরামর্শ ব্যতীত তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা যাবে। তবে বিভাগীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া এবং শিক্ষানবিশকাল সন্তোষজনকভাবে সম্পন্ন করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে স্থায়ী করা হবে।
চাকরি থেকে ইস্তফা দেওয়ার ক্ষেত্রেও কঠোর বিধান রাখা হয়েছে। সরকার থেকে ইস্তফা গ্রহণের আগে কোনো কর্মকর্তা দায়িত্বে অনুপস্থিত থাকলে তার কাছে সরকারের প্রাপ্য সব অর্থ আদায় করা হবে এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ৪৮তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষা–২০২৫-এর ফলাফলের ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করা হবে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নিয়োগের পর কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিরূপ বা ভিন্নতর তথ্য পাওয়া গেলে নিয়োগ আদেশ সংশোধন বা বাতিল করার অধিকার সরকার সংরক্ষণ করবে। এছাড়া কোনো কর্মকর্তা বিদেশি নাগরিককে বিয়ে করলে বা এ বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকলে তার নিয়োগপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে।
চাকরিতে যোগদানের সময় ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে যৌতুক না নেওয়া ও না দেওয়ার অঙ্গীকারনামা দিতে হবে। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির বিবরণী দাখিল করতে হবে। শর্ত অনুযায়ী আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে নির্ধারিত দপ্তরে যোগদান করতে হবে, অন্যথায় নিয়োগ বাতিল হবে।
Leave a Reply