শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:১৯ অপরাহ্ন

বিয়ে করলেই মিলবে বিশাল অনুদান, সন্তান জন্ম দিলে দ্বিগুণ!

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮.২১ অপরাহ্ণ
  • ৬৭ বার

সংযুক্ত আরব আমিরাতের শীর্ষস্থানীয় করপোরেট প্রতিষ্ঠান আল হাবতুর গ্রুপ তরুণদের পরিবার গঠনে উৎসাহিত করতে ব্যতিক্রমী ও উদার এক আর্থিক অনুদান কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও দুবাইয়ের প্রখ্যাত ব্যবসায়ী খালাফ আল হাবতুর জানিয়েছেন, তার গ্রুপে কর্মরত কোনো আমিরাতি নাগরিক বিয়ে করলে তাকে ৫০ হাজার দিরহাম নগদ অনুদান দেওয়া হবে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১৬ লাখ টাকা।

এতেই থেমে থাকছে না এই উদ্যোগ। বিয়ের পরবর্তী দুই বছরের মধ্যে যদি ওই কর্মীর সন্তান জন্ম নেয়, তাহলে অনুদানের অঙ্ক দ্বিগুণ করে ১ লাখ দিরহাম প্রদান করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন খালাফ আল হাবতুর। এই ঘোষণা ইতোমধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ বিষয়ে খবর প্রকাশ করেছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমস।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় খালাফ আল হাবতুর এই উদ্যোগের পেছনের দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, একটি স্থিতিশীল সমাজ ও শক্তিশালী জাতি গঠনের মূল ভিত্তি হলো পরিবার। তরুণদের বিয়ে ও পরিবার গঠনে উৎসাহ দেওয়া শুধু সরকারের একক দায়িত্ব নয়, বরং আর্থিকভাবে সক্ষম বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এই সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনে এগিয়ে আসা উচিত।

তার মতে, বেসরকারি খাতে কর্মরত স্থানীয় নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। এই অনুদান কর্মসূচির মাধ্যমে একদিকে যেমন তরুণদের পারিবারিক জীবন শুরু করার পথ সহজ হবে, অন্যদিকে তেমনি বেসরকারি খাতে আমিরাতি নাগরিকদের অংশগ্রহণ বাড়বে।

বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতের মোট জনসংখ্যার মাত্র প্রায় ১৫ শতাংশ স্থানীয় নাগরিক। বিপুল সংখ্যক প্রবাসীর উপস্থিতির ফলে জনসংখ্যাগত ভারসাম্য রক্ষা দেশটির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ কারণে সরকার ইতোমধ্যেই স্থানীয় নাগরিকদের বিয়ে, সন্তান জন্ম এবং পারিবারিক সুরক্ষায় বিভিন্ন ভর্তুকি ও আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি চালু রেখেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আল হাবতুর গ্রুপের এই সাহসী ও মানবিক উদ্যোগ সরকারের প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্যও এটি একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। মধ্যপ্রাচ্যের করপোরেট সংস্কৃতিতে এমন বড় অংকের সামাজিক অনুদান নিঃসন্দেহে এক নতুন মানদণ্ড স্থাপন করল।

Please Share This Post in Your Social Media

এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ

Footer Widget

Footer Widget

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© 2019, All rights reserved.
Design by Raytahost.com