টয়লেট ব্যবহারের পর কমোডের ঢাকনা নামানো উচিত নাকি তোলা এই নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতর্ক চলে আসছে। অনেকেই মনে করেন ফ্লাশের আগে ঢাকনা নামানো হলে স্বাস্থ্যবিধি বজায় থাকে। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা এই বিষয়টিকে আরও জটিল হিসেবে দেখাচ্ছে।
‘আমেরিকান জার্নাল অব ইনফেকশন কন্ট্রোল’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, ফ্লাশ করার সময় ঢাকনা নামানো হলেও বাথরুমের বিভিন্ন পৃষ্ঠে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে না। ফ্লাশের পানির চাপের কারণে টয়লেটে যে আলোড়ন তৈরি হয়, তাকে বলা হয় ‘ফ্লাশিং প্লুম’। ঢাকনা খোলা থাকলে নোংরা পানির ক্ষুদ্র কণা বাথরুমের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে যেতে পারে, এমনকি সিংক, তাক এবং টুথব্রাশেও জমা হয়।
গবেষকরা দেখেছেন, ছোট কণাগুলো ঢাকনার ফাঁকফোকর দিয়েই বাইরে আসে। বিশেষ করে ছোট ও কম বায়ুচলাচলের বাথরুমে এই ঝুঁকি আরও বেশি থাকে। তবুও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্কতামূলক সুবিধার জন্য ঢাকনা নামানোই উত্তম বলছেন। ঢাকনা নামানো থাকলে অন্তত বড় পানির ফোঁটা বাইরে ছিটকে আসে না, দুর্গন্ধ কমে এবং পোষা প্রাণীর সংক্রমণের ঝুঁকি কমে।
প্রকাশ্য ও অতিথি ব্যবহারের দিক থেকেও ঢাকনা নামানো একটি ভালো অভ্যাস। তবে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, শুধু ঢাকনা নামানোই যথেষ্ট নয়। সংক্রমণ রোধে টয়লেট সিট, ফ্লাশ বাটন, দরজার হাতল ও ট্যাপ নিয়মিত পরিষ্কার রাখা গুরুত্বপূর্ণ। বাথরুমে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখা, টুথব্রাশ ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র বন্ধ ক্যাবিনেটে রাখা এবং টয়লেট ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়া অত্যন্ত কার্যকর।
সংক্ষেপে, ঢাকনা তোলা বা নামানো নিয়ে বিতর্ক থাকলেও স্বাস্থ্য রক্ষার মূল চাবিকাঠি হলো বাথরুমের সার্বিক পরিচ্ছন্নতা ও নিয়মিত হাত ধোয়া। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করান, সঠিক পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলেই জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
Leave a Reply