আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনি প্রচারণাকালে আচরণবিধি কঠোরভাবে প্রতিপালনের আহ্বান জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটের পরিবেশ সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ রাখতে কমিশন সকল রাজনৈতিক দল, প্রার্থী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সংগঠনকে আইন ও বিধিমালার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার নির্দেশনা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিকের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্বাচনি প্রচারণার আড়ালে কিছু ব্যক্তি ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য সংগ্রহ করছে—এমন অভিযোগ নির্বাচন কমিশনের নজরে এসেছে, যা আইন পরিপন্থী।
ইসি জানায়, জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন আইন, ২০১০ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি অন্যের জাতীয় পরিচয়পত্র বহন বা হস্তান্তর করতে পারবেন না। একইভাবে, এনআইডির তথ্য সংগ্রহ, ব্যবহার বা সংরক্ষণ করার ক্ষেত্রেও আইনগত বিধিনিষেধ রয়েছে। এসব আইন লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করেছে কমিশন।
এছাড়া বিজ্ঞপ্তিতে ‘সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৪’-এর বিধি-৪ উল্লেখ করে বলা হয়, কোনো রাজনৈতিক দল, প্রার্থী কিংবা তার পক্ষে কাজ করা কোনো ব্যক্তি নির্বাচনি এলাকায় বসবাসকারী ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের চাঁদা, অনুদান বা উপহার দিতে বা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে পারবেন না। এ ধরনের কর্মকাণ্ড নির্বাচনি আচরণবিধি অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
নির্বাচন কমিশন মনে করে, অর্থ বা উপহারের মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা নষ্ট করে। তাই কমিশন সকল রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, তাদের কর্মী-সমর্থক এবং সাধারণ নাগরিকদের এসব কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
কমিশনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, নির্বাচনি আচরণবিধি প্রতিপালনের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনই ইসির প্রধান লক্ষ্য। এ ক্ষেত্রে ভোটারসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা অপরিহার্য। আইন ও বিধিমালার বাইরে গিয়ে কেউ কোনো কর্মকাণ্ডে জড়ালে নির্বাচন কমিশন কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইসির এই সতর্কবার্তাকে ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
Leave a Reply